বিমল

যুগান্তরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অভিমত: বিমল গুহ

আমাদের সংবাদ-জগতে ‘যুগান্তর’-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল আজ থেকে ২৩ বছর আগে নবযুগের বার্তা দিয়ে। শুরুর সংখ্যা হাতে নিয়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম এর উপস্থাপন-সৌকর্য দেখে। পত্রিকার প্রতীকচিহ্ন অর্থাৎ নামলিপিটা আমাকে বেশ টানে। প্রবাদ আছে-‘আগে দর্শনধারী, পরে গুণবিচারী’। দর্শন যেমন আকর্ষণীয় হয়েছে; গুণবিচারেও ‘যুগান্তর’ বড় ভূমিকা রেখেছে বিগত বছরগুলোতে।

সংবাদপত্র রাষ্ট্রপরিচালনায় সরকারের বড় এক সহায়ক শক্তি; বলা যেতে পারে সমাজের আয়না। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে সমাজ এ আয়নায় চোখ রাখে- নিজেকে দেখে নেয় প্রথমে- তারপর শুরু হয় দিনের কাজ। খবরের ভেতরের খবর তুলে আনতেও এর ভূমিকা সমাজ-শাসনের সমতুল। ‘যুগান্তর’ সে দায়িত্ব সফলভাবে পালন করে যাচ্ছে; যার ফলে এটি হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম প্রধান সংবাদ-উৎস, সর্বজনের গ্রহণীয় পত্রিকা।

যুগান্তরের সম্পাদকীয় পাতাটাও খুব ভালো লাগে আমার, বিশেষ করে উপসম্পাদকীয় লেখাগুলো। এখানে দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গের জ্ঞানগর্ভ শিক্ষণীয় মন্তব্য থাকে। ‘খেলা’ পাতাটিও ভালো হয়। আমার কাছে বড় আগ্রহ ‘যুগান্তর সাহিত্য’ পাতা, এ পাতাটিও ব্যতিক্রমী দায়িত্ব পালন করে জেলাভিত্তিক সাহিত্যের চিত্রটা তুলে ধরার মাধ্যমে। এটাকে বড় কাজ বলে আমি মনে করি। কারণ সাহিত্য শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক হবে- তা ঠিক নয়।

দেশের প্রান্তসীমার মানুষের মধ্যে মেধাবিকাশের সুযোগ করে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। যুগান্তর নিয়মিতভাবে অনেকদিন থেকে এ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এটা সত্যি প্রশংসনীয় কাজ। এখান থেকেই একদিন আরও কোনো হাসান আজিজুল হক, যতীন সরকার, ওমর আলী, হোসেনউদ্দীন হোসেন উঠে আসবে। এর ভেতরে সমৃদ্ধজাতির স্বপ্ন উঁকি দেয়। আমাদের প্রত্যাশা, যুগান্তর আগামী দিনগুলোতেও অধিকতর সমাজগঠনমুখী ভূমিকা পালন করে যাবে।

লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক