দৈনিক যুগান্তর আমার প্রিয় পত্রিকা। যুগান্তর যুগপৎ সাহসী ও সত্যনিষ্ঠ। গণমাধ্যম যে গণতান্ত্রিক মনোভঙ্গি থাকলে সর্বজনীন হয়, যুগান্তর ঠিক তাই। গত দুই দশক ধরে দৈনিক যুগান্তর মানুষের অধিকার, নাগরিক নৈতিকতা ও রাজনৈতিক সহনশীলতার কথা বলছে। দুর্নীতি, অর্থনৈতিক বৈষম্য, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির আস্ফালন ইত্যাকার বিষয় নিরপেক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরার ক্ষেত্রে যুগান্তর অগ্রগণ্য। যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল ভাই একজন নির্ভীক ও সৎ সাংবাদিকতার দৃষ্টান্ত।
আমি আমার সাহিত্যজীবনে যে কটি পত্রিকায় লিখে আনন্দ পেয়েছি যুগান্তরের নাম প্রথমে রাখতে চাই। একটা লেখা প্রকাশিত হলে দূরদূরান্ত থেকে পাঠকের প্রতিক্রিয়া পাই। এ জন্য প্রথমে একটা ভালো লেখা তৈরি হলে যুগান্তরে পাঠিয়ে দিই।
মফস্বল সাংবাদিকতাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার প্রকৌশল যুগান্তরের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করেছে। সুসম্পাদিত বাক্য, নির্ভুল বানান ও বিষয়-বৈচিত্র্যের কারণে যুগান্তর নতুনদের কাছে আদরণীয়।
বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো যুগান্তর দারুণ দক্ষতায় উপস্থাপন করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ের আন্তর্জাতিক ঘটনাগুলো প্রকাশ ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে যুগান্তর প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছে। সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয়, ফিচার, নিবন্ধ খুবই সুচিন্তিত ও সুখপাঠ্য। এমনকি সাংস্কৃতিক খবর, চলচ্চিত্র, নাটক ও নানা অনুষ্ঠানের সুচিন্তিত সংবাদে নতুনত্ব থাকে। যুগান্তরের সাহিত্য সাময়িকী নিঃসন্দেহে আমাদের সাহিত্যের দিকদর্শন ও নান্দনিকতার ভুবন তৈরিতে পারঙ্গম। বিশেষ করে রাজধানীর বাইরের সাহিত্যকর্মীদের সাহিত্যকর্ম প্রকাশ করে যুগান্তর সাহিত্য আন্দোলনের সূচনা করেছে। ‘প্রান্তছোঁয়া আকাশ’ নামের আয়োজনে যুগান্তরের সাহিত্য পাতায় কম পরিচিত ভালো কবিদের তুলে ধরছেন। এই কবিদের সাথে পরিচিত হয়ে বাংলাদেশের প্রকৃত সাহিত্যের সুরটা অনুধাবন করতে পারি। জেলার সাহিত্যের সর্বশেষ একটা অবস্থার ধারনা এই পাতার মাধ্যমে পাই, এবং একই সাথে পাঠে সমৃদ্ধ হই। যুগান্তর যখন আমার লেখা ছাপে আনন্দে বুক ভরে ওঠে। যুগান্তর এখন আমাদের তথ্যজগৎ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। যুগান্তরের জয় হোক।
লেখক : কবি, প্রাবন্ধিক ও গণমাধ্যম কর্মী